র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় জঙ্গল সলিমপুরের আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:০৪ অপরাহ্ণ   |   ৪১ বার পঠিত
র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় জঙ্গল সলিমপুরের আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড:


 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার পলাতক আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। সোমবার (গতকাল) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

 


 

গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি হলেন মো. মিজানুর রহমান (৫৩) ও মো. মামুন উদ্দিন (৩৮)। মিজানুর রহমান চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলে এবং মামুন উদ্দিন সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানীয়া এলাকার বোরহান উদ্দিনের ছেলে।

 


 

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার জানান, মিজানুর রহমান র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার ১৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এবং মামুন উদ্দিন সন্দেহভাজন আসামি। র‍্যাব তাঁদের থানায় হস্তান্তর করেছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
 

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার দুই আসামি নগরীর খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অবস্থান করছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে র‍্যাব-৭-এর একটি দল মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এ সময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকিং করে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় র‍্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন।
 

পরে থানা-পুলিশের সহায়তায় আহত র‍্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর তিন র‍্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
 

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পরও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের মধ্যে অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান ইয়াছিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।