জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামির পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যম সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, সালমান এফ রহমানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করার অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করেন যুক্তরাজ্যের আইনজীবী গ্রায়েম এল হল। গত ১৪ আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে তিনি এ আবেদন জমা দেন। গত ২৪ আগস্ট লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের কাউন্সেল গ্রায়েম এল হলের স্বাক্ষরিত আবেদনটি বার কাউন্সিল গ্রহণ করে।
আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১১(৮) ধারা উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকার অনুমতি চান গ্রায়েম। এ সময় তিনি নিজের পেশাগত পরিচিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করেন।
গত ৩০ আগস্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করেন মুনসুরুল হক চৌধুরী। তবে ওই আবেদনে আপত্তি জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি এবং পরে বার কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে বার কাউন্সিল আবেদন নাকচ করায় সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামির পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়েছে।