ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমী এবং তাঁদের পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তাঁদের ছেলে ফারদিন। পরিবারকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিথ্যা তথ্যসংবলিত পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওমর সানী।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেতা। এ সময় ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
ওমর সানী বলেন, “আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন। আমার ছেলে কিছুক্ষণ আগেও এ বিষয়ে কথা বলেছে। সে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছে। আমাদের নিয়ে লেখালেখি না করলেই নয়? ভাই, আমরা অনেক সিনিয়র হয়ে গেছি। চলচ্চিত্রে এসে কি আমরা পাপ করেছি? আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভালো আছি। নিজের কাজ নিয়েও ভালো আছি। আমি চুরি করি না। আমরা এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই। আমার সঙ্গে অনেকের ছবি থাকতে পারে, কিন্তু আমরা নিজেদের জায়গায় ঠিক আছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বেশি টাকা লাগে না। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। চলে যাওয়ার সময় এসে গেছে। আমাদের নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়াবেন না। যেসব পোস্টে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে মামলা করব।”
পরিবারকে নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, অন্য কেউ দেশের বাইরে থাকেন, এখন পরিবারের জন্য কিছু করার সময়। তাঁদের নিয়ে এসব করে কত টাকা আয় করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ওমর সানী ও মৌসুমীর একমাত্র ছেলে ফারদিন কৌশলে পরিবারের সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তবে এ খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ওমর সানী।
অভিনেতার দাবি, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে থাকেন এবং মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কোনো সম্পত্তি নেই বলেও জানান তিনি। ফলে মৌসুমীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার খবরটি সত্য নয় বলে দাবি করেন এই অভিনেতা।
এদিকে পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচক আলোচনা ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফারদিনও।
সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে ফারদিন বলেন, তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত খবরটি প্রথমে দেখে তাঁর হাসি পেয়েছিল। কিন্তু খবরটি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। বিশেষ করে তাঁর বাবা-মা ও পরিবারকে নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।
ফারদিন বলেন, “যখন বিষয়টা বাবা-মা পর্যন্ত চলে যায়, তখন আসলে মেনে নেওয়া কঠিন। কেউ আমাকে নিয়ে ভিউ ব্যবসা করলে, আমাকে নিয়ে মন্তব্য করে টাকা আয় করলে করুক। কিন্তু আমার পরিবার, আমার মা-কে নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। সবারই মা-বোন আছে। এসব আমি মেনে নিতে পারি না।”
নিজেদের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে ফারদিন বলেন, তাঁর বাবা ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে থাকেন এবং তিনিও ব্যবসার কারণে দূরে রয়েছেন। তাঁর মা ছোট বোনের সঙ্গে থাকেন। তবে দূরে থাকলেও প্রতিদিন তাঁরা গ্রুপ কলে কথা বলেন। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনুভূতি তৈরি হয় বলেও জানান তিনি।
ফারদিনের ভাষ্য, এসব গুজব তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কে কোনো ভাঙন ধরাতে পারেনি। তবে বিষয়টি এখন তাঁর কর্মক্ষেত্রেও আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসে এসে অনেকে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করছেন, ফোন করেও জানতে চাইছেন। বিষয়টি তাঁর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবারকে নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য ও মানহানিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানান ফারদিন। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য তাঁর আইনজীবীদের একটি দল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি মানহানির অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি।
ফারদিন বলেন, “আমি এই বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছি না। আমার আইনজীবীদের একটি দল ইতিমধ্যে এ নিয়ে কাজ করছে। তাদের কাছে আইনি নোটিশ যাবে। মানহানির মামলা বা বাংলাদেশের আইনে যে ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।”
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দিয়েছেন ওমর সানী ও ফারদিন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ভিউ বা অর্থ উপার্জনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়; এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।