বরখাস্ত এসআই শাহ আলমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৩ মার্চ ২০২৫ ০৩:১১ অপরাহ্ণ   |   ১৪৩ বার পঠিত
বরখাস্ত এসআই শাহ আলমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড

খুলনা ব্যুরো:-

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) বরখাস্ত উপপরিদর্শক মো. শাহ আলমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
 

প্রায় এক যুগ আগে খুলনা নগরীর খালিশপুরের মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার মিল্কি আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক মাসুদ হাসানের বাসার গৃহকর্মী সীমাকে হত্যার পর লাশ গুমের গল্প তৈরি করেছিলেন এসআই শাহ আলম। পরবর্তীতে পুলিশের আরেকটি দল সীমাকে জীবিত উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ-হয়রানির অভিযোগে দুদক শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল।
 

আদালত থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর দৌলতপুর গ্রামের মৃত. ওলিয়ার রহমানের ৯ বছরের মেয়ে সীমাকে কাজে লাগাতে মাসুদ হাসান ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন তাদের বাসায় নিয়ে আসেন। বেশ কিছুদিন পর সীমা নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজের ঘটনায় সীমার মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে ২০১২ সালের ৭ মে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন, যেখানে গৃহকর্তা মাসুদ হাসান, মোহাম্মদ আলী খোন্দকার এবং মো. মাসুদ শেখকে আসামি করা হয়।
 

এ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে খালিশপুর থানার তৎকালীন এসআই শাহ আলম ওই পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না পেয়ে শাহ আলম নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যার নাটক সাজান। পরবর্তীতে ডুমুরিয়া উপজেলার লাইন বিল পাবলার একটি খাল থেকে বস্তাবন্দী ২৮-৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের নারীর লাশ সীমা হিসেবে বর্ণনা করে মামলার তদন্ত চালান। এই ঘটনায় মাসুদ হাসান ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলম নির্যাতন করেন। তবে পরে সীমা জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়।
 

ঘুষ না দেওয়ায় গৃহকর্মী সীমার হত্যার নাটক ও জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর আদালত তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইয়াসিন আলী জানান, দুটি ধারায় এসআই শাহ আলমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।