একজনের লাশ এলো, আরেকজনের অপেক্ষা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ   |   ৬৩ বার পঠিত
একজনের লাশ এলো, আরেকজনের অপেক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি প্রবাসী এস এম তারেক আলীর মরদেহ এক মাস পর দেশে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। 

 

বিমানবন্দরে তারেক আলীর মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ছাড়া প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

 

গত ২ মার্চ বাহরাইনে ইরানের হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নিহত হন তারেক আলী। দেশটির বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় মৃতদেহ দেশে আনা যায়নি। বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইনের উদ্যোগে গালফ এয়ার সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে বর্তমানে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে। গতকাল এয়ারলাইন্সটির একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারেকের মৃতদেহ দেশে আনা হয়। 

 

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর গ্রামের মাইদুল হকের ছেলে নিহত প্রবাসী তারেক। বিমানবন্দর থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক মোহাম্মাদ শাহেদ হোসেন। 

 

তিনি বলেন, মরদেহ দাফনের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক থেকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ অনুদান হিসেবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বজনদের হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। 

 

শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে চান স্ত্রী 
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়াকে (৫০) হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী ও চার সন্তান। প্রিয়জনের মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বাড়ির পাশে দাফন করার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। 

 

নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের প্রয়াত হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ফুজাইরাহর আল-রিফা এলাকার একটি খামারে কর্মরত ছিলেন। 

 

স্বপ্ন ছিল পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহ আলম দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। আগামী কোরবানির ঈদে ছুটি নিয়ে দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল তাঁর। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। বুধবার দুপুরে সহকর্মীদের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।


নিহতের স্ত্রী নয়না আক্তার আহাজারি করে বলেন, ‘স্বামী কল করলেই সন্তানদের পড়াশোনার খবর নিতেন। মেয়েদের খোঁজ নিতেন। এবার ঈদে বাড়ি আসার কথা ছিল তাঁর। আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেল। আমি শুধু শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই। সরকার যেন তাঁর লাশটা দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করে।’ 

 

গত বৃহস্পতিবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। 

 

ইউএনও বলেন, পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় এই পরিবারের পাশে থাকবে। 

 

আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম গাল্ফ নিউজ জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় ফুজাইরাহ অঞ্চলের আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশ করলে দেশটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সেটি সফলভাবে প্রতিহত করে। ড্রোনটি ধ্বংস হওয়ার পর এর অবশিষ্টাংশ আল-রিফা এলাকার একটি খামারে গিয়ে পড়ে। ওই সময় সেখানে কর্মরত শাহ আলম গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।