মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস পর পা কাটার পরামর্শ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৫ আগu ২০২৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ   |   ৮৪ বার পঠিত
মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস পর পা কাটার পরামর্শ

মোঃ নাজিমুল হাসান নাজির, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:



হবিগঞ্জের মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে এক নারীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওই ব্যক্তির দেওয়া ওষুধ সেবনের পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং পায়ের ক্ষত ও ফোলাভাব আরও বেড়েছে। পরে রোগীকে পা কেটে ফেলার বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

ভুক্তভোগী মোছা. শারমিন আক্তার উপজেলার ৪ নম্বর আদাঐর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।
 

পরিবারের অভিযোগ, ফেসবুকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে তারা ‘ডা. এস.এম. সারোয়ার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি চার মাসের চিকিৎসা কোর্সে ক্যান্সার ভালো করার আশ্বাস দেন বলে দাবি পরিবারের। এ জন্য প্রথম মাসে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী মাসগুলোতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
 

পরিবারের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সেবন করেও শারমিনের পায়ের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তার পায়ে বড় ধরনের ফোলা ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ওই ক্ষত থেকে মাঝেমধ্যে প্রচুর রক্তপাতও হচ্ছে বলে পরিবারের দাবি।
 

শারমিন আক্তার বলেন, পায়ের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি পুনরায় ওই চিকিৎসকের কাছে যান। তখন তাকে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পা কেটে ফেলার কথা বলা হয়।
 

শারমিনের শ্বশুর মো. জজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে অনেক টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন রোগীর পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
 

অভিযোগের বিষয়ে ডা. এস.এম. সারোয়ারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
 

এদিকে রোগীর পায়ে বড় ক্ষত ও অতিরিক্ত ফোলাভাব থাকায় বিষয়টি গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের উচিত দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা দেওয়ার যোগ্যতা, নিবন্ধন ও বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
 

তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসার নামে প্রতারণা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।