মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩২ পূর্বাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার

আলমগীর হোসাইন, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

 

 

 

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গাছে মরিচ ধরা শুরু হতেই দেখা দিয়েছে অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাব। একে একে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে খেতের পর খেত মরিচ গাছ। এতে চরম হতাশা ও আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অথচ অভিযোগ উঠেছে, দুর্যোগের এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, সরেজমিনে খেত পরিদর্শনেও যাননি উপজেলা কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকার সাতজন কৃষক প্রায় ৫ একর জমিতে 'বগি', 'পিউর' ও 'প্রিমিয়াম' জাতের মরিচের আবাদ করেছেন। খেতজুড়ে ডালপালায় সবেমাত্র কাঙ্ক্ষিত মরিচ আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু সপ্তাহখানেক ধরে হঠাৎ করেই অজানা রোগে কচি ডালপালা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে পুরো গাছ। কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। রোগ শনাক্ত করতে না পারায় ওষুধ প্রয়োগেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তিনি ৪৬ শতাংশ জমিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ চাষ করেছিলেন। বাম্পার ফলনের আশা ও সংসারের সচ্ছলতার স্বপ্ন এখন ফিকে হতে বসেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত সপ্তাহ থেকে গাছ মরা শুরু হয়েছে। দোকান থেকে ওষুধ এনে দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। অথচ কৃষি অফিস থেকে আজও কেউ আমাদের খোঁজ নিতে এলেন না।”

 

একই এলাকার অপর কৃষক এনছ মণ্ডল জানান, সমস্যা নিরসনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মাঠে আসেননি। উল্টো সমস্যার সমাধান না দিয়ে ফোন কালেই কৃষকদের ওপর দায় চাপানো ও নানা জেরার মুখোমুখি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামসহ আরও অনেকেই এখন নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে—যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি।

 

মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে কড়ইচড়া ও বিনোদটঙ্গী এলাকার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া জানান, তিনি সিধুলী ইউনিয়নে 'কৃষি কার্ড' তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি।

 

অন্যদিকে, এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষকদের সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে দেখা করার পরামর্শ দেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ কিংবা কৃষকদের জরুরি কারিগরি সহায়তার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষি বিভাগের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে রোগ শনাক্ত ও উপযুক্ত চিকিৎসা না মিললে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় ও মূলধন হারানোর শঙ্কায় দিন গুনছেন মাদারগঞ্জের মরিচ চাষিরা।