যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছে। এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে চলমান সংঘাত চূড়ান্তভাবে বন্ধ হতে পারে বলে ধারণা করছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অন্তত চারজন কর্মকর্তা।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি আংশিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তবে এই শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টাই এখন যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র উপায়। এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের ব্যাপক বিস্তার ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানির স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান।
ইরানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ১০ দিনের সময়সীমা সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে গত রোববার (৫ এপ্রিল) তিনি এই সময়সীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন। ট্রুথ সোশ্যালে নতুন সময়সীমা ঘোষণা করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)।
এদিন ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেন, ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তবে তেমনটি না হলে তিনি ইরানের ‘সবকিছু ধ্বংস’ করে দেয়ার হুমকি দেন।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বৃহৎ বিমান হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সময়সীমা বাড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ দেয়া।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। এছাড়া ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে টেক্সট বার্তার মাধ্যমেও যোগাযোগ হচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানকে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সেগুলো গ্রহণ করেনি।
সূত্রগুলো বলছে, দুই ধাপের একটি চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথম ধাপে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি থাকবে, যার সময়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে, এমনটিও জানিয়েছেন একটি সূত্র। দ্বিতীয় ধাপে থাকবে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার চূড়ান্ত চুক্তি।