ঝড়ে মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চার দিন ধরে অন্ধকারে ১৫ গ্রাম, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ   |   ৭০ বার পঠিত
ঝড়ে মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চার দিন ধরে অন্ধকারে ১৫ গ্রাম, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

জামালপুর প্রতিনিধি:


জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে টানা চার দিন ধরে অন্তত ১৫টি গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গভীর রাতে আঘাত হানা ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বুধবার পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, পাশাপাশি মোবাইল চার্জ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের জটিয়ারপাড়া, মহিষবাথান, লালডোবা, পূর্ব নলছিয়া, ইলশামারী, চরগুজামানিকা ও বাগলেরগড়; চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ; বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া ও সামানপাড়া; জোড়খালী ইউনিয়নের খিলকাটি পশ্চিমপাড়া এবং গুনারীতলা ইউনিয়নের গুনারীতলা পূর্বপাড়াসহ অন্তত ১৫টি এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

লালডোবা এলাকার বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, “চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। পরীক্ষার্থীরা পড়তে পারছে না, মোবাইল চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না, ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে।”

পূর্ব নলছিয়ার আবু হানিফ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তি বাড়ছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী ইউনুস আলী বলেন, “মোমবাতি বা চার্জলাইট জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। পরীক্ষার সময় এ পরিস্থিতি খুব কষ্টকর।”

এদিকে, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে খুঁটি ও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ে মেরামতের কাজ চলছে। কিছু এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেছে, তবে টানা বৃষ্টি ও জনবল সংকটের কারণে কাজ শেষ করতে সময় লাগছে।”

তিনি আরও জানান, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।