নিজস্ব প্রতিবেদক:-
শহীদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন এবং প্রয়াত সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিকাল তিনটা অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় শেষ হয়।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধি কে. এম. ফোরকান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ওপর জোর দেন।
এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান এবং মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে কোনো মিডিয়ার লোক জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ, তবে যারা ঘন ঘন পক্ষ পরিবর্তন করেন, তারা এর বাইরে।
সাংবাদিক ও লেখক কামাল পারভেজ শত শত মানুষের নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকার সমালোচনা করে বলেন, এটি একটি জাতিগত লজ্জা। তিনি বলেন, “এক ফ্যাসিবাদ গিয়েছে, আরেক ফ্যাসিবাদ এসেছে।” তিনি বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের গুম বা সাইবার নিরাপত্তা আইনে হয়রানির ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তিন মাসের মধ্যে তুহিন হত্যার বিচার হলে তা প্রমাণ করবে বিচার সঠিক পথে এগোচ্ছে।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক খায়রুল আলম রফিক জানান, ১২ই আগস্ট 'তুহিন ফাউন্ডেশন'-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। শত শত মানুষের সামনে নির্মমভাবে তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের প্রশংসা করেন। তিনি নতুন সাংবাদিকদের প্রতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম এডিটর'স ক্লাবের সভাপতি এম. আলী হোসেন, খায়রুল আলম রফিকের দূরদৃষ্টির প্রশংসা করে 'আসাদুজ্জামান তুহিন ফাউন্ডেশন'-কে তার ফসল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তুহিনকে বাংলাদেশে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং তার পরিবারকে সাহস জোগাতে হবে।
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন বলেন, শহীদ সাংবাদিক তুহিন ফাউন্ডেশনকে সব ধরনের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সিআরএ সভাপতি সোহাগ আরেফিন বলেন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক খায়রুল আলম রফিক একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত সম্পাদকরা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের খবর রাখেন না, কিন্তু রফিক এই ধারণাকে বদলে দিয়েছেন। তিনি মাত্র ১৫-২০ দিনের মধ্যে তুহিন হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক ও লেখক কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের নিজেদের ভুল স্বীকার করার প্রবণতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপ-সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী জুয়েল, রেজাউল করিম রেজা, মনির হোসেন, কামরুল ইসলাম, রফিকসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।