৩৪ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১ লাখ ৯ হাজার ৩০০ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
৩৪ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১ লাখ ৯ হাজার ৩০০ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

আনোয়ার হোছাইন, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধিঃ

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ও কক্সবাজারে পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুইজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রেজুখাল চেকপোস্ট ও মংজয়পাড়া বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বিজিবির তল্লাশিদল ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াড ‘ডগ হিরো’ অংশ নেয়।
 

বিজিবি সূত্র জানায়, প্রথম অভিযানে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেজুখাল চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশিকালে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাড়ির অতিরিক্ত চাকার ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকানো ৭৫ হাজার ৮০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক আব্দুল হক (৪৬) আটক হন। তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
 

একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেজুখাল চেকপোস্টে দ্বিতীয় অভিযানে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী আরেকটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী মিলন মাহমুদ সজিব (২৭)-এর আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অস্বীকার করলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে করালে তার পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরে পায়ুপথের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
 

এছাড়া একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মংজয়পাড়া বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৪২ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামিরতলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় কারবারি, গ্রাম পুলিশ, পাড়ার হেডম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি পাহাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫ লিটার বাংলা মদ জব্দ করা হয়।
 

এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।” তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
 

উল্লেখ্য, রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান দমনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। সাম্প্রতিক এসব অভিযানে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা বেড়েছে।