নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকা থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও জাতীয় দৈনিক এদিনের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি, অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে তাঁর ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। মঙ্গলবার ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, একজন সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তাঁর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে।
ডিআরইউর বিবৃতিতে সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর বরাত দিয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ডিআরইউ। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন, এটিএম বুথের তথ্য, মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও আইএমইআইসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
ডিআরইউ নেতারা বলেন, পেশাগত পরিচয় বা মতপ্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো, অপহরণ, জিম্মি করা কিংবা শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিবৃতিতে সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ডিআরইউ। একই সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।