নতুন আইন ও নামে এলিট ফোর্স গঠনের ভাবনায় সরকার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৮ মে ২০২৬ ০৪:৫৫ অপরাহ্ণ   |   ৪৫ বার পঠিত
নতুন আইন ও নামে এলিট ফোর্স গঠনের ভাবনায় সরকার

ঢাকা প্রতিনিধি:

 

সরকার নতুন আইন ও নতুন নামে একটি এলিট ফোর্স গঠনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে এবং সেই আইনের আওতায় এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে।
 

সোমবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দপ্তরে র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাব এতদিন ব্যাটালিয়ন সংক্রান্ত একটি আইনের আওতায় পরিচালিত হলেও বাহিনীটির নিজস্ব কোনো আইন ছিল না। তিনি বলেন, “এভাবে পরিচালিত হওয়া সঠিক ছিল না। তাই আলাদা এলিট ফোর্সের জন্য নতুন আইন করা হবে। সেখানে বাহিনীর কর্তৃত্ব, দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।”
 

তিনি আরও জানান, নতুন আইনের অধীনে বাহিনীটির নাম র‍্যাব রাখা হবে নাকি নতুন নামে নতুন ফোর্স গঠন করা হবে, তা এখনো বিবেচনাধীন। তবে নতুন কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
 

র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর মতো র‍্যাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব দায়ী নয়। অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাহিনীটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে।”
 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন আইন ও নতুন কাঠামোয় এলিট ফোর্স গঠন করা হলে আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে।
 

আগের মতো র‍্যাব রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে অন্য কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি, যা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে।
 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি দক্ষ এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। সে লক্ষ্যেই বিদ্যমান আইন সংশোধন করে বাহিনীটিকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাব গঠন করা হয়েছিল। শুরুতে বাহিনীটি মূল উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 

সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়কেরা উপস্থিত ছিলেন।