শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ডিসি ফরিদা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:১৫ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ডিসি ফরিদা

ডেস্ক নিউজ | ঢাকা প্রেস

 

পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম।
 

মঙ্গলবার সকালে সাভার উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
 

ফরিদা খানম বলেন, পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
 

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কেউ অপপ্রচার, বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
 

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে নিয়োজিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জরুরি আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; বরং তাঁরা কাজে ফিরতে চান।
 

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। যেসব পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে, সেগুলোতে শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে মোতায়েন রয়েছেন।
 

আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ফরিদা খানম বলেন, হেলমেট পরে কিংবা বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। প্রকৃত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; বরং কাজে ফিরতে চান। কারণ, তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা মজুরির ওপর নির্ভরশীল।
 

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের হঠকারিতা, সহিংসতা কিংবা নাশকতা বরদাশত করা হবে না।
 

ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা ও জনগণের সচেতনতার কারণে তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

 

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছে। শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
 

এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।