বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতার মৃত্যু

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০১ জুলাই ২০২৬ ০৫:১৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতার মৃত্যু

বিনোদন ডেস্ক

 

ভারতের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক বিজয়া মেহতা আর নেই। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
 

ভারতীয় নাট্যাঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত বিজয়া মেহতা ষাটের দশকে মুম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত নাট্যদল ‘রঙ্গায়ন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। প্রখ্যাত নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা অরবিন্দ দেশপাণ্ডে ও শ্রীরাম লাগুসহ সমসাময়িক নাট্যব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিনি মারাঠি নাট্যচর্চায় নতুন ধারা সূচনা করেন। তাঁদের উদ্যোগে নাটক কেবল বিনোদনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের মতপ্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়।
 

মঞ্চনাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও অভিনয়েও সমান দক্ষতার পরিচয় দেন বিজয়া মেহতা। তাঁর পরিচালিত ‘রাও সাহেব’ (১৯৮৬) ও ‘পেস্টনজি’ (১৯৮৮) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পার্টি’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
 

১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাটের বরোদায় জন্মগ্রহণ করেন বিজয়া মেহতা। তাঁর জন্মনাম ছিল বিজয়া জয়বন্ত। নাটকের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ইব্রাহিম আলকাজি ও আদি মারজবানের কাছে নাট্যশিক্ষা গ্রহণ করেন।
 

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। এছাড়া ১৯৮৭ সালে ‘রাও সাহেব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মান লাভ করেন।
 

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সংগীত নাটক একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অভিনয়, নাট্যপরিচালনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি তাঁর আত্মজীবনী ‘ঝিলতা ঝিলত বাতা’ও পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।