গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামে স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা বিএনপি।
সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আমখোলা বাজারে আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং গলাচিপা উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি শাহজাহান খানের ছবি ছিল। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিল।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলকারীদের ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা’—এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এরপর ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; ছাত্রলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগানও শোনা যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, মিছিল ও সমাবেশে আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান গাজী, সদস্যসচিব আল মামুন সরদার এবং গলাচিপা উপজেলা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ইমরানসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া আহসান ইমরান বলেন, তিনি সোমবার পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে নিজ উপজেলায় ফিরছিলেন। আমখোলা চৌরাস্তায় পৌঁছালে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আল মামুন সরদার তাঁকে মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তিনি মিছিলে যোগ দেন। তাঁর দাবি, মিছিল চলাকালে পেছন থেকে কে বা কারা যুবলীগ-ছাত্রলীগের নামে ওই স্লোগান দেন।
আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান গাজী বলেন, ‘আমরা তো দলীয় স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছি। এর মধ্যে কে বা কারা যুবলীগ-ছাত্রলীগের নাম করে স্লোগান দিয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি।’
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলতাফ খান বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।