সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত বুথ পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, সাংবাদিক ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন বহনে কোনো বাধা নেই। ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে রোববার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলা হয়।
তবে এই নির্দেশনা প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞাকে অযৌক্তিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালন কার্যত কঠিন হয়ে পড়ত।
নতুন ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।