আপিল বিভাগের রায়: ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর বাধা নেই

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০২ জুলাই ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ণ   |   ৪৫ বার পঠিত
আপিল বিভাগের রায়: ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর বাধা নেই

ঢকা প্রেস প্রতিবেদক

 

দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
 

রায়ের ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
 

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণের পর প্রণীত আইনে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ওই আইনে পূর্বের প্রধান শিক্ষকসহ সবাইকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গ্রেডেশনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের পূর্ববর্তী চাকরিকালের ৫০ শতাংশ পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে গণনার বিধান রাখা হয়।
 

এই বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করে আইনটির কিছু বিধান বাতিল করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে রাষ্ট্রের আপিল মঞ্জুর করেন।
 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে বর্তমানে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
 

তিনি আরও জানান, শুরুতে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার। তবে ২০১৩ সালের পর থেকে অবসরজনিত কারণে নতুন করে বহু পদ শূন্য হওয়ায় বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজারে পৌঁছেছে।
 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন স্কেল এবং অন্যান্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছিল। সেই মামলার রায়ের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো বৃহস্পতিবার।