কুমিল্লা প্রতিনিধি:-
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু তাহেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার হাইকোর্টের নির্দেশে কুমিল্লার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।
হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার মুখে মাস্ক পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন অ্যাডভোকেট আবু তাহের। এ সময় ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে তিনি দ্রুত এজলাসে প্রবেশ করলে কিছু আইনজীবী এজলাসের বাইরে অবস্থান নেন।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতের কক্ষে কিছু আইনজীবী হৈচৈ করছেন। পরে জামিন নামঞ্জুরের পর বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে মাথায় হেলমেট ও শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় তাকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির লেজার বইয়ে ওভার রাইটিং, ভুয়া ও দ্বৈত ভাউচার তৈরি, ফ্লুইড ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট আবু তাহের ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই মেয়াদে হিসাবরক্ষক কাজী সুমনের সহায়তায় ৪ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৭২০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩৮ হাজার ১৪৪ টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু তাহের ও হিসাবরক্ষক কাজী সুমনের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর সমিতির সাধারণ সভায় গৃহীত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ নভেম্বর কার্যকরী কমিটির জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সাধারণ সদস্য পদ স্থগিত করা হয় এবং হিসাবরক্ষক কাজী সুমনকে বহিষ্কার করা হয়।
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান জানান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।