মাছ ধরতে গিয়ে যেভাবে বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে পেলেন এক জেলে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ মে ২০২৬ ০৬:৫২ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
মাছ ধরতে গিয়ে যেভাবে বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে পেলেন এক জেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের লোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ করেছে স্থানীয় পুলিশ।

 

হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে দুর্ঘটনাবশত বৃষ্টির মরদেহের সন্ধান পান। ওই জেলে কায়াক নিয়ে মাছ ধরার সময় তার ছিপের সুতা একটি ঝোপের মধ্যে আটকে যায়। সুতা ছাড়াতে গিয়ে ঝোপের ভেতরে ঢুকতেই তীব্র দুর্গন্ধ পান তিনি। কিছুটা এগিয়ে একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগের ভেতর মানুষের দেহাবশেষ দেখে তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পচে যাওয়ার কারণে মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনে যে পোশাক ছিল তার সঙ্গে মিল পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়। পরে ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ড পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় যে এটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। সে তার স্মার্টফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।

 

চ্যাটজিপিটিতে হিশাম জিজ্ঞাসা করেছিল- মরদেহ কীভাবে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে আবর্জনায় ফেলা যায়, গুলির শব্দ প্রতিবেশীরা শুনতে পাবে কি না, ছুরি দিয়ে খুলি ভেদ করা সম্ভব কি না ইত্যাদি। মরদেহটি সে নিজের গাড়ির ট্রাংকে করে উপকূলে নিয়ে ঝোপের আড়ালে ফেলে এসেছিল।

 

হিশাম বর্তমানে জামিনবিহীন কারাগারে আছে। তার বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। লিমনের রুমমেটরা পুলিশকে জানিয়েছেন, হিশামের আচরণ সবসময়ই সন্দেহজনক ছিল।

 

ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ ও অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে হত্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (চ্যাটজিপিটি) ব্যবহারের বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চিন্তিত করে তুলেছে।

 

গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। আটদিন পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার হয়।