সীতাকুণ্ডে টমেটো খেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ মার্চ ২০২৬ ০৫:৫৮ অপরাহ্ণ   |   ১১ বার পঠিত
সীতাকুণ্ডে টমেটো খেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি


 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় টমেটো খেত থেকে সজিব (২৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে তা উদ্ধার করা হয়।
 

পুলিশ জানায়, নিহত সজিব মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তিনি মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে দারোয়ানের কাজ করতেন।
 

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, স্থানীয়ভাবে ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় গেলে জানা যায়, সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা আলিম ও শাহাবুদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাতে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, এতে অন্তত আটজন আহত হন।
 

পুলিশের ধারণা, ওই সংঘর্ষের সময় আহত হয়ে সজিব পাশের একটি টমেটো খেতে পড়ে ছিলেন। বিষয়টি কেউ খেয়াল না করায় তিনি সেখানেই মারা যান। পরদিন বুধবার সকালে স্থানীয়রা খেতে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
 

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মুরাদপুর ইউনিয়নের গোপ্তাখালী আমতলী এলাকায় চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সন্ধ্যায় ইফতারের পর দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 

আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদে তার স্বামী আলিম ও শাহাবুদ্দিনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক এসে দোকানের সামনে থেকে তার স্বামীকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালায়।
 

অন্যদিকে শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ হয়নি। তার কাছে আলিমের প্রায় ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা নিয়ে কথা বলতে গেলে আলিম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কিছু লোক তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং সেই ঘটনায় দারোয়ান সজিব নিহত হন।
 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোরশেদ আলম বলেন, অভিযোগকারী ও হামলাকারী উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অন্যান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
 

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।