পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের মামলা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

 

পটুয়াখালীতে মনিরুল ইসলাম ইমন নামে এক কলেজছাত্রকে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের পর এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই।
 

গত রোববার রাতে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেন ইমন। পরদিন সোমবার বিকেলে আহত অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়।
 

ইমন পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ওষুধের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
 

ইমনের অভিযোগ, সাকিব তাঁর পূর্বপরিচিত। রোববার রাত ১১টার দিকে বসাক বাজারে গেলে মোবাইলে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে সাকিব তাকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে চা পান করতে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর সাকিবসহ কয়েকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে মারধর করেন।
 

ইমনের দাবি, তাঁর Samsung Galaxy S25 Ultra মোবাইল ফোনটি সাকিব নিয়ে দুই-তিন দিন নিজের কাছে রাখতে চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। পরে একটি বিদ্যালয়, পরিত্যক্ত বাড়ি ও একটি বাসায় নিয়ে রাতভর নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
 

ইমন আরও অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে এক লাখ টাকা দেওয়ার পর সকালে তিনি মুক্তি পান।
 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর দাবি, তিনি ইমনকে চেনেন না। সাকিব বলেন, একটি স্কুলছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটক করে মারধর করছিলেন। ডাক-চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
 

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে যে কারণেই হোক, একজন তরুণ ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাকিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ইমনের বড় ভাই লিমন মাহমুদ গাজী বাদী হয়ে মঙ্গলবার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেছেন।
 

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।