আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এ আসনে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে মনোনীত করা হয়েছে।
এদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচন সামনে রেখে ঘর গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। আংশিক কমিটি দিয়ে বহু বছর পাড়ি দেওয়া চিলমারী উপজেলা বিএনপি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। বড় দল হিসেবে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
এ তালিকয় রয়েছেন চিলমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী সরকার, রৌমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজিজুল হক, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি, রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও নদী, চর ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সাদ কাশেম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত ৪টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩টিতে জয়ী আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী কারাবন্দি। গা-ঢাকা দিয়েছেন অনেকে। একই অবস্থা জাতীয় পার্টিরও। আওয়ামী লীগ শাসনামলের দোসর তকমা পাওয়া এ দলটি নির্বাচন নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ। ইমেজ সংকটের কারণে নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচার দূরে থাক, প্রকাশ্যে কোনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন না। চলমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটিতে এবার বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
৩টি সংসদ নির্বাচনকে প্রহসন নির্বাচন আখ্যা দিয়ে অংশ নেয়নি বিএনপি ও জামায়াত। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে তৃণমূলের রাজনীতিতে কোণঠাসা ছিল দল দুটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরেছে তারা।
ছাত্রদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, জাকের পার্টি, জাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের তেমন প্রভাব নেই। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে জানিয়েছেন ভোটাররা।
চিলমারী উপজেলা জামায়াতের আমির অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক নুর আলম মুকুল বলেন, ‘রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা জয়যুক্ত হয়ে ছাত্র-জনতার সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাব। আমরা নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে, সাধারণ মানুষের কাছেও সেই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।’
চিলমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, ‘এ মুহূর্তে তৃণমূল বিএনপিকে সুসংগঠিত করাই আমাদের প্রধান কাজ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত যিনিই প্রার্থী হন আমরা ভেদাভেদ ভুলে তাঁর পক্ষেই কাজ করব।’