মুরাদনগরে ‘ভূতুড়ে’ উন্নয়নের অভিযোগ: কাগজে শতভাগ, মাঠে শূন্য

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৬ অপরাহ্ণ   |   ৬৬ বার পঠিত
মুরাদনগরে ‘ভূতুড়ে’ উন্নয়নের অভিযোগ: কাগজে শতভাগ, মাঠে শূন্য

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

 

 

কাগজে-কলমে রাস্তা নির্মাণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন। অথচ বাস্তবে নেই ইট, নেই ঢালাই, নেই কোনো নির্মাণকাজের চিহ্ন। কোথাও পুকুরের অস্তিত্ব থাকলেও নেই প্রকল্পে উল্লেখ করা গাইড ওয়াল। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এমনই চিত্রের অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে কোনো কাজ না করেই একাধিক প্রকল্পের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪টি কথিত ভুয়া প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে দেওয়া পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে মোট ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেই পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরেও একই ধরনের দুটি প্রকল্পের বিপরীতে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

‘কাজ বাতিল’, পরে দেখা গেল টাকা উত্তোলন

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম বলেন, কাজিয়াতল এলাকার একটি সড়কে গাইড ওয়াল নির্মাণের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে জানানো হয়, প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, কাজ না হলেও প্রকল্পের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি বিস্মিত। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে কীভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির প্রকল্পেও একই এলাকায় বারবার প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

 

অভিযোগ অস্বীকার চেয়ারম্যানের

অভিযোগের বিষয়ে দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার বলেন, অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কাজগুলো আগের অর্থবছরেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থবছরের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।

 

তদন্তের নির্দেশ

গত ১৫ জুলাই অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ৬৬৫।

 

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সাকিব হাছান খান বলেন, নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর অভিযোগগুলো যাচাই করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের বাস্তবায়ন যাচাই এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।