১৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম: মুরাদনগরে নিম্নমানের নির্মাণ ভেঙে ফেললেন প্রকৌশলী, সাব-কন্ট্রাক্ট বাতিল

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ   |   ৬৭ বার পঠিত
১৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম: মুরাদনগরে নিম্নমানের নির্মাণ ভেঙে ফেললেন প্রকৌশলী, সাব-কন্ট্রাক্ট বাতিল

💫 অভিযোগের পরপরই সরেজমিন অভিযান।

💫 ত্রুটিপূর্ণ অংশ অপসারণ, নজরদারিতে জোর। 

💫স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি, প্রশংসায় ভাসছেন প্রকৌশলী।

 

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

 

 

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই অনেক সময় তা তদন্তের জটিলতায় হারিয়ে যায়। তবে কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ ভেঙে ফেলা এবং দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টরের চুক্তি বাতিলের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ। তার এই দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে।


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন "চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ” প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেটংঘর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের ৫ কিলোমিটার উন্নয়নকাজ চলমান।


মনির-ইসলাম জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৯ মে শেষ হওয়ার কথা।


গত মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বায়তুছ সালাত জামে মসজিদ সংলগ্ন আর্সি নদীতে একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ চলছিল। তবে শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।


বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণের নজরে এলে তিনি দেরি না করে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।


উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ অংশ অপসারণ করা হয়েছে এবং দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বাকি কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নিম্নমানের এই নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। তারা উপজেলা প্রকৌশলীর এমন দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, নিয়মিত মনিটরিং হলে সরকারি উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব।


বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তারা বলেন, দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রমে আস্থা আরও বাড়বে।