মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রতারণা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ১৯ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সোমবার (২০ জুলাই) মন্ত্রণালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এসব আইন ও শর্ত লঙ্ঘন করায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সিন্ডিকেট গঠন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে মোট ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল হওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটাল এন্টারপ্রাইজ, শাহীন ট্রাভেলস, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ, মদিনা ওভারসিজ, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রা. লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড এবং পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেডসহ মোট ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সি।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রাশিদা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।