পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিপিসহ আহত ৩

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:১৬ অপরাহ্ণ   |   ১০২ বার পঠিত
পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিপিসহ আহত ৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:-

 

পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিনসহ তিনজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 

আহত অন্য দুজন হলেন পৌর জামায়াতের ৬নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন ও জামায়াত কর্মী গাজী মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির। গুরুতর আহত অবস্থায় রুহুল আমিনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

আহত আইনজীবী রুহুল আমিন জানান, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ছিল ৯টি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের শেষ সময়। জামায়াত সমর্থিত জেলা ‘ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। কিন্তু যখন তারা সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়নপত্র চাইতে যান, তখন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বাধা দেন এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
 

তিনি আরও বলেন, "পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই জামায়াত ৯টি পদেই আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেলে হামলার শিকার হতে হয়।"

 

জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রধান অ্যাডভোকেট মোহসীন উদ্দিন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী। তারা সংঘর্ষের সময় নীরব ভূমিকা পালন করেন।

 

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. সালাহউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আইনজীবী সমিতির চত্বরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব রটানো হচ্ছে।"
 

এ প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম মোজাম্মেল হক তপন বলেন, "এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আগে আওয়ামী লীগের ছিলেন, এখন জামায়াতের কাঁধে ভর করেছেন। তাই তাকে দেখে কিছু আইনজীবীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক, এবং জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।"

 

জেলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. মোহসীন উদ্দিন জানান, "জেলা জামায়াতের আমির নিজে উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তদুপরি, তিনটি পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়নি—এমন অভিযোগও সঠিক নয়।"