ঢাকা প্রেস নিউজ
ঢাকার কেরানীগঞ্জে কিশোরী মারিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া গ্রামের কামির উদ্দিনের ছেলে মো. সজিব, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার খাঁকান্দা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে মো. রাকিব এবং শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার মুসলিম মাতবরের ছেলে শাওন ওরফে ভ্যালকা শাওন।
এছাড়া মরদেহ গুমের অপরাধে তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দুই আসামি আলী আকবর (২২) ও মো. রিয়াজ (২২) অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।
আদালত নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা আসামি রাকিব, রিয়াজ ও শাওনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে দণ্ডিত রাকিব ও শাওনকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়। তবে দণ্ডিত সজিব পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০২২ সালের ১১ জুন কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার এলাকায় টহল পুলিশ সকাল পৌনে ৮টার দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পায়—পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের সামনে পুকুরের পানিতে এক নারীর মরদেহ ভাসছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং মামলা দায়ের করে।
পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করে। মারিয়ার বান্ধবী বৃষ্টি আক্তার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানান, মরদেহটি তার বান্ধবী মারিয়ার। পরবর্তীতে পুলিশ শাওনকে গ্রেপ্তার করে, এবং তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। শাওন জানান, রাকিব, সজিব, আলী আকবরসহ মিলে মারিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখে। পরে রাকিব ও সজিবও গ্রেপ্তার হয়ে একই স্বীকারোক্তি দেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর অলক কুমার দে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।