তিন মাদক বিক্রেতাকে আটকের পর গুলি, নারীসহ আহত ৪

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ   |   ৪৯ বার পঠিত
তিন মাদক বিক্রেতাকে আটকের পর গুলি, নারীসহ আহত ৪

স্টাফ রিপোর্টার:

 

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় মাদক বিক্রেতা তিন তরুণকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ এবং বিএনপির এক কর্মী ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। রোববার রাতের এ ঘটনায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গেণ্ডারিয়ার রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 

রোববার সন্ধ্যায় রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকায় মাদক বিক্রির সময় মো. রিফাত, মো. বিল্লাল ও মো. রাকিব নামে তিন তরুণকে আটক করা হয়। স্থানীয় ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী মনির হোসেনের লোকজন তাদের আটক করে একটি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে তাদের গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
 

পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, আটক তিনজনের কাছ থেকে ৯৬টি ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাদের থানায় নেওয়া হয়।
 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে অটো সজল গ্রুপের অন্তত ২০ জন সদস্য স্বামীবাগ-মুন্সিরটেক এলাকায় গিয়ে হামলা চালায়। তারা মনির হোসেনের লোকজনের ওপর হামলা ও একটি কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা যায়। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় দোকানিরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
 

গুলিতে চা দোকানি আলমগীর, পথচারী আশা আক্তার ও সিয়াম আহত হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবু আহত হন। তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
 

পুলিশ জানায়, অটো সজলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে পুলিশের দাবি।
 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মুন্সিরটেক এলাকায় রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। রোববার রাতে গুলির শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে বাসায় চলে যান।
 

এদিকে ঘটনার পর সোমবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
 

গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২০ রাউন্ড গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।