পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বর্ণময়ীর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৪ মে ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ণ   |   ৩৭ বার পঠিত
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বর্ণময়ীর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সোবহানবাগে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর গ্রাফিক্স ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের (২৮) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত মানসিক কষ্ট থেকেই তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর সোবহানবাগের নিজ বাসা থেকে স্বর্ণময়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘শ্বাসরোধ’ উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের পরীক্ষায় কোনো ধরনের সহিংসতা বা ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রক্তমাখা ব্লেড, ওড়না এবং স্বর্ণময়ীর নিজ হাতে লেখা একটি ডায়েরি ও সুইসাইড নোট উদ্ধার করে।

স্বর্ণময়ীর উদ্ধারকৃত ডায়েরি ও চিরকুটে তাঁর একাকীত্ব ও গভীর মানসিক যন্ত্রণার চিত্র ফুটে উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে চিরকুটের বরাতে জানানো হয়:

স্বর্ণময়ী মনে করতেন, পরিবারের কাছে তিনি একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং কেবল একটি ‘দায়িত্ব’ হিসেবে গণ্য হচ্ছিলেন।

বিশেষ করে তাঁর মায়ের সাথে সম্পর্কের দূরত্ব তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল। তাঁর লেখায় অভিযোগ ছিল, মা কেবল তাঁর ভাইকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।

তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, মা আর দাদাভাই ছাড়া কেউ চিনলই না যে মায়ের জগতে আমি কোথাও ছিলাম না।

পুলিশের দাবি, স্বর্ণময়ী এই চরম সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেননি। তিনি অনেক আগে থেকেই এটি করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে ভাইয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করে তিনি এতদিন অপেক্ষা করেছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি ব্লেড দিয়ে নিজের হাত ক্ষতবিক্ষত করেন।

পরে স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে জেরা করলে তিনি পোশাক বদলানোর কথা বলে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনরা দরজা খুলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটের বক্তব্য এক ও অভিন্ন। পারিবারিক ও মানসিক সংকটই এই মেধাবী কর্মজীবীর আত্মহত্যার মূল নেপথ্য কারণ।