নিউজ ডেস্ক-ঢাকা প্রেস:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমার-এ তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, যা দেশটির সার্বিক জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
সংকট মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটও এ অবস্থার জন্য দায়ী।
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় কালোবাজারে উচ্চ দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে মিয়ানমারের জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।