বাসস
মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল রোববার ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি প্রথমে কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২২ জুন বিকেলে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে, যেখানে সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা থাকবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২৩ থেকে ২৫ জুন চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন বা ‘সামার দাভোস ফোরাম’-এ অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।
চীন সফরকালে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়া ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সফর চলাকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। ২৬ জুন চীন সফর শেষ করে আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।