রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমানকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিবার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা কবি নজরুল মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং আন্দিকুট সৈয়দ গোলাম জিলানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ মোশারফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন একাডেমিক সুপারভাইজার কোহিনুর বেগম, রামচন্দ্রপুর রামকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম, ঘোরাশাল হাজী মুকসুদ আলী গাউছিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. তাজুল ইসলাম, মুরাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা হাসিনা আক্তার, কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন, চাপিতলা অজিফা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খন্দকার শফিকুল ইসলাম, কুড়াখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন, শিক্ষক ও সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ, খোরশেদ আলম এবং সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন কুড়াখাল মাদ্রাসার সুপার আ.ন.ম. জসিম উদ্দিন। এসময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মুরাদনগরে এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও শিক্ষকবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা খুব কমই এসেছেন। তারা উল্লেখ করেন, ইউএনও মো. আবদুর রহমান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের আশার প্রতীক। যেকোনো প্রয়োজনে, দুর্যোগ কিংবা সংকটে শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষ তাকে পাশে পেয়েছেন।
বিদায়ী বক্তব্যে ইউএনও মো. আবদুর রহমান বলেন, “শিক্ষকরা জাতির কান্ডারি; তাদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির জন্য শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “মুরাদনগর শুধু আমার কর্মস্থল ছিল না, এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা আমার জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।”
জানা গেছে, মো. আবদুর রহমান ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুনাম অর্জন করেন এবং অল্প সময়েই স্থানীয়দের আস্থা ও ভালোবাসা লাভ করেন।