ট্রাম্পের পদক্ষেপের জেরে ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শকের অপসারণ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০১:২৭ অপরাহ্ণ   |   ৯৭ বার পঠিত
ট্রাম্পের পদক্ষেপের জেরে ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শকের অপসারণ

অনলাইন ডেস্ক:-

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির (USAID) মহাপরিদর্শক পল মার্টিনকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউএসএআইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরই মার্টিনকে অপসারণ করা হয়।
 

সোমবার ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ সংস্থাটির কার্যক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদেশি সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত এবং ইউএসএআইডির কর্মী সংখ্যা হ্রাসের কারণে ৮.২ বিলিয়ন ডলার অনুমোদিত তহবিল বিতরণ ব্যাহত হয়েছে। এতে মানবিক সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই পল মার্টিনকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ট্রেন্ট মোর্সের পাঠানো এক ইমেলের মাধ্যমে মার্টিনকে বরখাস্তের কথা জানানো হয়েছে। ইমেলে জানানো হয়, তাঁর অপসারণ ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে, তবে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
 

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএসএআইডির ওপর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিদেশি সহযোগিতা কার্যক্রম ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। এর ফলে নতুন সাহায্য অনুমোদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ইউএসএআইডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
 

এই সময়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইলন মাস্ক ইউএসএআইডির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে সংস্থাটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইউএসএআইডি মার্কিন জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র গবেষণায় অর্থায়ন করেছে এবং প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে।
 

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত পরে ইউএসএআইডির ২,৭০০ কর্মীকে সাময়িকভাবে কাজে ফেরার অনুমতি দিয়েছে। ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ কার্ল নিকোলস ৭ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ইউএসএআইডি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনায় ধাক্কা লাগে।
 

আদালতের আদেশের পর প্রায় ৫০০ কর্মী পুনর্বহাল হন এবং আরও ২,২০০ কর্মী কাজে ফেরার সুযোগ পান। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীদের স্থানান্তরও স্থগিত করা হয়েছে।
 

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (OECD) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে ১৮০টিরও বেশি দেশে ৭,২০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, পর্যালোচনার ৮৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে যে, সমস্ত বিদেশি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে। তবে জরুরি খাদ্য সহায়তার জন্য বিশেষ অনুমোদন অব্যাহত থাকবে, যাতে গাজাসহ অন্যান্য সংকটপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়।