কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৪ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা প্রেস:


 

দলমত–নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক সহযোগিতা নিয়ে একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চলছে। তবে সবার সহযোগিতা নিয়ে এসব বাধা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
 

বুধবার জাপানের টোকিওর নিউ ওয়াজনি হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
 

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ দলমত–নির্বিশেষে সবার কাছে আমি একটা কথা বলব—আপনাদের মন থেকে সহযোগিতা যদি থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের এই বাংলাদেশকে, আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। তবে এ জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং একসঙ্গে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
 

জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসীদের ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে দেশটি নতুনভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে এবং উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে জাপানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহী করে তুলতে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশে বিনিয়োগ বাড়লে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা একসময় জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে। পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়নও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
 

প্রবাসীদের দেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাপানের ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলো জাপানি ব্যবসায়ী মহলের কাছে তুলে ধরতে পারেন প্রবাসীরা। এতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।
 

তিনি বলেন, প্রবাসীদের কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত, আবার অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাঁরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে পারেন।
 

ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রশাসন নিয়ে যাত্রা শুরু

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আট মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিল। প্রশাসনের অবস্থাও ছিল নাজুক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এ ছাড়া দেশে আরও নানা ধরনের সমস্যা ছিল, যার কিছু এখনো বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকারকে সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
 

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে তাদের উপযোগী করে একটি বই তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, জনসচেতনতা তৈরি এবং নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তুলতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
 

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে দেশের সন্তানরা সুশিক্ষিত হবে এবং ভবিষ্যতে তারাই দেশ গড়ে তুলবে। তাই শিক্ষার মান বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্কার। বিভিন্ন ধরনের সংস্কারের আলোচনা থাকলেও মানুষের জীবনে সরাসরি ইতিবাচক পরিবর্তন আনে—এমন উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
 

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে কী ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, তা বিবেচনায় নিতে হবে। চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা, মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করাও সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
 

তারেক রহমান বলেন, ‘যে সংস্কারটা করলে দেশের মানুষ একটু হলেও ভালো স্বাস্থ্যসুবিধা পাবে, এর থেকে জরুরি সংস্কার আর কী হতে পারে এই মুহূর্তে?’
 

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক রকম সংস্কারের কথা বলছেন, কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, যে দুটো কথার কথা বললাম, এই দুটোই অনেকগুলো সংস্কারের মধ্যে এই মুহূর্তের জন্য জরুরি সংস্কার।’
 

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সারা দেশ ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার ক্ষমতা বাড়ল বা কমল, তার চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক খাতের উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 

তরুণদের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব

ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধা বাড়াতে নীতিকাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তন আনা যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে ও পরে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, তার অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
 

তিনি বলেন, যুবসমাজের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দেখতে হবে, এর ফলে দেশের মানুষ, মা-বোনেরা ও নারীরা সুস্থ ও ভালো থাকতে পারবেন কি না। মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করেন।
 

সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সারা দেশে সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
 

তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশকে সবুজে ঘেরা দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হতো। কিন্তু এখন আগের মতো সর্বত্র সবুজের সমারোহ চোখে পড়ে না। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন বলতে শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তন বোঝায় না; মানুষের সুস্থতা, জীবনযাত্রার মান, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশের উন্নয়নও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির সভাপতি রেজী মীর, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনি, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এস ইসলাম নান্নু, সহসভাপতি মাসুম জাকির, দপ্তর সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং ব্যবসায়ী নেতা কাজী সারওয়ার হাবিব (সিআইপি) উপস্থিত ছিলেন।