যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলে আসছে নতুন নেতৃত্ব, আলোচনায় কারা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১২ মে ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ   |   ৫৪ বার পঠিত
যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলে আসছে নতুন নেতৃত্ব, আলোচনায় কারা

জাতীয় কাউন্সিল ও সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর অংশ হিসেবে দলটির তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন- জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন পর এসব সংগঠনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। যদিও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির এ তিনটি অঙ্গসংগঠনের নতুন কমিটিতে কারা স্থান পেতে পারেন তা সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

 

তবে দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা নিশ্চিত করেছেন, এবারের কমিটিগুলোতে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা, দলের প্রতি আনুগত্য ও দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদেরকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। 

 

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে আরও গতিশীল ও মাঠমুখী করতে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছাত্র ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারে যুবদল ও ছাত্রদলের কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলকেও সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

দলীয় সূত্র জানায়, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতাদের তালিকা একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি আনুগত্য- এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।

 

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অনেক জায়গায় সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা। এ অবস্থায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে মূল্যায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সংগঠনগুলোকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ কমিটি ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি তিনি।

 

দলীয় সূত্র আরও জানায়, গত এপ্রিল থেকে একাধিক বৈঠকে অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। সেখানে কেবল জ্যেষ্ঠতা নয়, বরং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা, মামলা-নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে পদ পাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

 

গত ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপি ও তিন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও জাতীয় কাউন্সিল এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, দলের সাংগঠনিক গতি বাড়াতে দ্রুত পুনর্গঠন সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে সেখানে।

 

বর্তমান কমিটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা বাদ পড়তে পারেন- এমন আলোচনা দলীয় অন্দরে জোরালো হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সংগঠনগুলোর ভেতরে নানা হিসাব-নিকাশও শুরু হয়েছে।

 

যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি ঘিরে এখন ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তাঁদের অনেকে মনে করছেন, আগামী কয়েক মাস বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। জাতীয় কাউন্সিল, স্থানীয় নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতেই এ পুনর্গঠন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে অথবা পরে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো বিএনপির চেয়ারম্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।