রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সানজিদা (৯) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ পাটখেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া এলাকায় ডালিয়া সেচ ক্যানেলের পাশের একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সানজিদা ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় শাইলবাড়ী কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে খেলতে বের হওয়ার পর থেকে সানজিদার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিকেল থেকে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যার পর এলাকাজুড়ে মাইকিং করেও তার সন্ধান মেলেনি।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরের একটি পাটখেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা মরদেহটি নিখোঁজ সানজিদার বলে শনাক্ত করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। পাটখেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটির চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।