মণিপুরে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ   |   ৯৯ বার পঠিত
মণিপুরে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ

অনলাইন ডেস্ক:-

 

ভারতের মণিপুরে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেটি রাজ্যের গভর্নর অজয় কুমার ভাল্লার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে চলমান বিক্ষোভ, সংঘাত ও সহিংসতার পর মণিপুরে রাষ্ট্রপরিত শাসন চালু করা হয়। এরপর, ২০ ফেব্রুয়ারি, মণিপুরের গভর্নর বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণের জন্য একটি আহ্বান জানান এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
 

গভর্নরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অস্ত্র জমা দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে, যারা অস্ত্র সমর্পণ থেকে বিরত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ১২টি সিএমজি বন্দুক, ২টি পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেল, ২টি এসএলআর রাইফেল, ৪টি এসবিবিএল রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা পড়েছে। এর মধ্যে এসএমজি ও এসএলআর রাইফেলের ম্যাগজিন, তাজা গুলি, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 

মণিপুর রাজ্য প্রশাসন ইতোমধ্যে এসব অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও বেশি অস্ত্র জমা পড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
 

গভর্নরের আহ্বানকে সাধারণ জনগণ সমর্থন জানাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব পিকে সিং জানিয়েছেন, যারা সশস্ত্র রাজনীতি ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’।
 

মণিপুরের জাতিগত সংঘাত ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হয়, যখন মণিপুর হাইকোর্ট মেইতেই জনগোষ্ঠীকে তফসিলি জাতি হিসেবে ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে কুকি জনগোষ্ঠী আন্দোলন শুরু করে, যা অল্প সময়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়। এ সংঘাতে বিদ্রোহী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার মধ্যে বেশিরভাগই কুকি ও জো জাতিগোষ্ঠীর সদস্য।
 

গত দেড় বছরের মধ্যে এই সংঘাতে আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি।