২০ দিনে ৬,৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন, পেয়েছেন ৩,২৪৫ কোটি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:১৭ অপরাহ্ণ   |   ৩৫ বার পঠিত
২০ দিনে ৬,৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন, পেয়েছেন ৩,২৪৫ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহককে মোট ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
 

ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন করে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত এসেছে। এ ছাড়া নতুন হিসাব খোলা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৪টি। এসব নতুন হিসাবের মাধ্যমে জমা হয়েছে আরও ৩৭৮ কোটি টাকা।
 

এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দেয়। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ অর্থ দেওয়া হয়।
 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু হয়।
 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক সংকট ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার পর ব্যাংকগুলো একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিভিন্ন সময়ে এসব ব্যাংককে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদসহ সেই অর্থের পাওনা বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুন করে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
 

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার কথা রয়েছে।
 

এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্কিমও ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
 

গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।
 

এরপর অর্থ ফেরতের বিশেষ উদ্যোগ নেয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এ সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না।
 

কোনো গ্রাহক মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। আর হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।