জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: নেতৃত্বে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৭:১২ অপরাহ্ণ   |   ৯১ বার পঠিত
জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: নেতৃত্বে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন

নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আনুষ্ঠানিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হয়েছেন আখতার হোসেন।
 

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়কে নির্মিত মঞ্চ থেকে নতুন এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়। শহীদ মো. ইসমাইল হাসান রাব্বির বোন মিম আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নাম ঘোষণা করেন।
 

দল ঘোষণার মুহূর্ত

মিম আক্তার বলেন, “আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, গত ৫ আগস্ট দুই বোনের কাঁধে ভাইয়ের লাশ ছিল। আমি সেই দুই বোনের একজন। ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আমরা ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছি।”
 

এরপর তিনি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব হিসেবে দলের নেতৃত্বে থাকার ঘোষণা দেন।
 

আংশিক কমিটি ঘোষণা

পরবর্তী সময়ে আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ডা. তাসনীম জারা ও নাহিদা সারোয়ার।
 

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান সমন্বয়কারী, আবদুল হান্নান মাসউদকে যুগ্ম সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সালেহউদ্দিন সিফাতকে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
 

অনুষ্ঠানের সূচনা ও মূল বক্তব্য

বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হলে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল্লাহ হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, “এই তরুণদের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। গত ৫৩ বছরে যা সম্ভব হয়নি, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।”
 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি শহীদ ও আহতদের চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মঞ্চে একে একে উপস্থিত হন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সামান্তা শারমিন, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীসহ অনেকে।
 

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

  • জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
  • নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না
  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি
  • হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির আহমেদ আলী কাসেমী
  • বিকল্পধারার নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ
  • লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
  • ইসলামী ঐক্য জোটের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন
  • বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের
     

নতুন এ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ধারার যাত্রা শুরু হলো।