সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২১ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৯ পূর্বাহ্ণ   |   ৭২ বার পঠিত
সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ, ঢাকা প্রেস:

 

 

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সভায় ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সব ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে বিজিবি সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত পাঁচ মাসে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নতুন বিওপি স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ক্যামেরা সংযোজন এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিজিবিকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

 

তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি তার শৃঙ্খলা। তিনি বিজিবি সদস্যদের গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, বাজেট ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ধাপে ধাপে বিজিবির যৌক্তিক চাহিদা পূরণ, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজিবি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জোরপূর্বক পুশইনের অপচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করায় বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে বর্তমানে পুশইনের অপচেষ্টা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

 

এ সময় তিনি মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবির মানবিক কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন।

 

এর আগে বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়।

 

মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি পিলখানাস্থ ‘সীমান্ত গৌরব’, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং ‘দীপ্ত সীমান্ত’ বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। সফরের শেষপর্যায়ে সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।