মোস্তফা আন্জুম ফাহিম,স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরে আনিস নামে এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যার পর তার মরদেহ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোফিয়া নামের এক প্রেমিকার বিরুদ্ধে।আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।সেই প্রেমিক সোফিয়া গ্রেফতার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকার লোহারপুল সংলগ্ন খাল থেকে একটি কাটা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।পরবর্তীতে সেটি নিখোঁজ যুবক আনিসের মাথা বলে শনাক্ত করা হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নগরের পৃথক স্থান থেকে আনিসের দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করা হয়।দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধারের পর ঘটনাটি সামনে আসে।
নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,নিহত আনিস গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন।বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া হাত দুটি শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে খাল থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।এ পর্যন্ত ভিকটিমের শরীরের একাধিক অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে,মঙ্গলবার রাতে সোফিয়া নামের এই নারী কৌশলে আনিসকে ডেকে নেন। পরে শীল-পাটা দিয়ে প্রথমে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর দা দিয়ে ঘাড়ে কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে নগরের বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়া হয়। মাথাটি অক্সিজেন মোড় সংলগ্ন লোহারপুল এলাকার খালে ফেলা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়,নিহত আনিস রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, আনিস সোফিয়াকে প্রায় দুই লাখ আশি হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সোফিয়া আনিসকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন।
তবে সোফিয়ার স্বজনদের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আনিস সোফিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময়ের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। এ নিয়ে সোফিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও মানসিক চাপ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উভয় পক্ষের দাবি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড চট্টগ্রাম নগরের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।