রয়টার্স
আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, হামলায় ২২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার চালানো এসব হামলা নিয়ে আফগান তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। তিনি হামলাকে ‘আগ্রাসন’ ও স্বীকৃত নীতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের দুটি আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের পাশাপাশি সেখানে মজুত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে হামলায় হতাহতের বিষয়ে দুই দেশের দাবির কোনো তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। গত মাসে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ স্থাপনায় জঙ্গি হামলায় ২৪ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে অবস্থানরত উগ্রবাদীরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, উগ্রবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
গত দুই সপ্তাহে পাকিস্তান আফগানিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় উগ্রবাদীদের আস্তানা ধ্বংস ও অনেক উগ্রবাদী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। বিপরীতে কাবুলের অভিযোগ, এসব হামলায় সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে।
এর মধ্যেই আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রোববার দাবি করেছে, পাকিস্তান থেকে আসা একটি দলের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হাতে ২৮ জন যোদ্ধা নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইসলামিক স্টেটের সদস্যও ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।