কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা আটক

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৫ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা আটক

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে ঢাকার মিরপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় তাঁর বোনের বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
 

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শ্রীনগর থানার পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল অভিযান চালিয়ে শরিফুজ্জামানকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে এক লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড ও ব্যাংক লকারের একটি চাবি উদ্ধার করা হয়েছে।
 

পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, সম্প্রতি শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে শরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক দিন ধরে ব্যাংকটির সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় ও বিক্ষোভ চলছে।
 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ২৫৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে রোববার ১৮৪ জন, সোমবার ৪৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৫ জন অভিযোগ দেন। অভিযোগকারীরা এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকার দাবি করেছেন। বুধবার সকালেও শত শত গ্রাহক ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।
 

গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকের নির্ধারিত জমা স্লিপ ব্যবহার করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করা হয়েছে। আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আর কেউ জড়িত কি না এবং মোট কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 

নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন জানান, গত শুক্রবার এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে করা জিডি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিডির কপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।
 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তাই আটক শরিফুজ্জামানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।