গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যৎ কী হবে কেউ বলতে পারবে না: খন্দকার মোশাররফ

প্রকাশকালঃ ০৭ মে ২০২৩ ০৫:০২ অপরাহ্ণ ৫৭৪ বার পঠিত
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যৎ কী হবে কেউ বলতে পারবে না: খন্দকার মোশাররফ

বাংলাদেশের গণতন্ত্র যদি পুনরুদ্ধার করা না যায়, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে কেউ বলতে পারবে না—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ সরকারকে যত দ্রুত বিতাড়িত করা যায়, দেশের জনগণ ও দেশের জন্য ততই মঙ্গল।’

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজকে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গণতন্ত্রের জন্য যারা কথা বলে, তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিয়ে তারা ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে।’


নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি। সে আন্দোলনের সমর্থনে যুক্তি দিতে গিয়ে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন গত দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাঁদের অভিযোগ আবারও তুলে ধরেন। এমনকি তিনি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ান–ইলেভেনে যারা সংবিধানবহির্ভূতভাবে সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারে ছিল, সেই সরকার পালিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে গিয়েছিল। সেই আওয়ামী লীগ আজকে গায়ের জোরে ক্ষমতায় রয়েছে। এ দেশের মানুষ ২০১৪–তে নির্বাচন বয়কট করেছিল। ২০১৮–তে দিনের পর রাতে ডাকাতি করেছে, দেশে-বিদেশে আজ একই কথা।’


বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে গিয়েছিলেন। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাঁকে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ‘সাময়িক মুক্তি’ দেয় সরকার। এর পর থেকে তাঁর দণ্ডাদেশ স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস করে বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মানববন্ধন কর্মসূচি নিয়েছিল বিএনপির সমর্থক সংগঠন  জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

এ কর্মসূচিতে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কার কাছে নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইছি? তারা কিন্তু মুক্তি দিতে রাজি হবে না। যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তাদের কাছে দাবি করে লাভ নেই। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তির একমাত্র পথ গণ–আন্দোলন তৈরি করা।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন, ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।