শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দেশের ৬৪ জেলার স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ‘বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে যোগ দেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী বর্তমানে এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
এ কর্মবিরতির ফলে প্রতিদিন ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার কেন্দ্রে টিকা প্রদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে মা ও শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোববার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও মনিপতাকা হাতে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। দাবি আদায়ের স্লোগানে মুখরিত হয় এলাকাটি। তারা জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মসূচি চলবে।
স্বাস্থ্য সহকারীরা বলেন, তাঁদের আন্তরিক কর্মপ্রচেষ্টার ফলে দেশের গড় আয়ু বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
২০০৯: ইমিউনাইজেশন কর্মসূচিতে সাফল্যের জন্য গ্যাভির পুরস্কার
২০১০: শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য জাতিসংঘের এমডিজি–৪ অ্যাওয়ার্ড
২০১১: শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে সাউথ–সাউথ পুরস্কার
২০১২: টিকাদান কর্মসূচিতে সাফল্যের জন্য গ্যাভির অ্যাওয়ার্ড
২০১৪: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ টিকাদানকারী দেশের অ্যাওয়ার্ড
২০১৪ (২৭ মার্চ): ডব্লিউএইচও কর্তৃক পোলিও নির্মূলের সনদ
২০১৬: জাইকার স্বীকৃতি
২০১৬: ধনুষ্টকার নির্মূলের সনদ
২০১৯: জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে 'ভ্যাকসিন হিরো' সম্মাননা অর্জন
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্বাস্থ্যখাতের এইসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে, আজ তারাই অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার।”
স্বাস্থ্য সহকারীদের নেতারা জানান, বহুবার আলোচনায় বসেও সমাধান না পেয়ে এবার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—
“প্রজ্ঞাপন (জিও) জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে শহীদ মিনারেই আত্মাহুতি দেব, কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাব না।”
তারা আরও বলেন, “আমরা কখনোই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি, কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা আমাদের এ অবস্থানে আসতে বাধ্য করেছে। পাঁচবার আশ্বাস পেয়েও ফল না পাওয়ায় এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের যৌক্তিক ছয় দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
📌 দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীরা সতর্ক করেছেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন তারা।