তপ্ত বৈশাখের চিরচেনা খরতাপকে ছাপিয়ে আষাঢ়ের ধূসর মেঘে ঢাকা পড়েছে আকাশ। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শুরু হওয়া অবিরাম ভারী ও অতি ভারী বর্ষণে জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকেই মেঘের প্রচণ্ড গর্জন আর দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে মহানগরী। রাজপথের নিচু এলাকাগুলোয় বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে অফিসগামী যাত্রী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গণপরিবহন সংকট আর জলমগ্ন রাস্তায় কর্দমাক্ত পরিবেশ রাজধানীবাসীর জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও দেশের অভ্যন্তরে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালার প্রভাবে এই অকাল বর্ষণ আরো অন্তত ৯৬ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। বৃষ্টির এই তাণ্ডব শুধু নগরেই সীমাবদ্ধ নেই; কিশোরগঞ্জ, ভোলা ও ফেনীর মতো উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে, যা বোরো ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোয় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। বৈশাখের এই বৈরী প্রকৃতি একদিকে যেমন জনজীবনে ভোগান্তি এনেছে, অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষের জীবিকাকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। এক অসহনীয় স্থবিরতায় থমকে গেছে চঞ্চল জনপদ।
রাজধানী ঢাকার চিত্র- ভোগান্তির এক সকাল : গতকাল বুধবার ভোরের আলো ফোটার আগেই মেঘের গর্জনে ঘুম ভাঙে ঢাকাবাসীর। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আকাশ এতটাই অন্ধকার হয়ে আসে যে, রাজপথে চলাচলকারী যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যায়। সন্তানকে ইস্কাটনের স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে প্রকৃতির চরম বৈরিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। রিকশা সংকটের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ায় ছাতা উল্টে ভিজতে হয়েছে বাবা-ছেলে দুজনকেই।
কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট এবং শাহবাগ এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। ফলে অফিসগামী যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া এবং জলাবদ্ধ রাস্তায় কর্দমাক্ত পানি ছিটকে পড়ার বিড়ম্বনা ছিল সঙ্গী।
জলাবদ্ধতায় ডুবল আরামবাগ ও ডিএনসিসি এলাকা : প্রতিবছরের মতো এবারও সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর আরামবাগ, মতিঝিল ও মগবাজারের নিচু এলাকায় হাঁটু পানি জমে গেছে। আরামবাগ এলাকায় ড্রেনেজ সংস্কার কাজ চলায় বৃষ্টির পানি জমে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের কাজ চলায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে, আরএই বৃষ্টি সেই গর্তগুলোকে মরণফাঁদে পরিণত করেছে।
কেন এই অকাল বর্ষণ- আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা : সাধারণত বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হয়, যা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিন্তু এবারের বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের মতে, দেশের অভ্যন্তরে বায়ুমণ্ডলর নিচস্তরে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং ঊর্ধ্বস্তরে শীতল বাতাসের সংযোগে বিশাল আকারের ‘বজ্রমেঘ’ বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি হয়েছে। এই মেঘগুলো সাধারণত স্থির হয়ে এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টি ঝরায়।
দ্বিতীয়ত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের কারণে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প দক্ষিণ দিক থেকে ভূখণ্ডের প্রবেশ করছে। এই আর্দ্র বায়ু বজ্রমেঘকে আরো শক্তিশালী করছে। ফলে বৃষ্টি শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক নয়, বরং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সারাদেশের আপডেট- কোথায় কেমন বৃষ্টি : আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অর্ধেকের বেশি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলে বৃষ্টির ফলে বোরো ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নিচু জমিগুলো ইতোমধ্যেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভোলায় ১৫১ এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়ার কারণে নদী উত্তাল থাকায় ছোট ছোট লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের তীব্রতা বেশি থাকায় জেলেরা উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছেন।
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে সতর্কতা : আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কৃষি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব : এই সময়টি বাংলাদেশের কৃষি ক্যালেন্ডারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অনেক জায়গায় এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। ভারী বৃষ্টির ফলে কাটা ধান ক্ষেতে ভিজে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার কারণে ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উত্তরের জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরেও বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।
তবে সেখানে বৃষ্টির চেয়ে দমকা হওয়া ও শিলাবৃষ্টি আম চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মুকুল থেকে গুটি হওয়া আম, লিচু ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজার ও বাঁশখালী এলাকায় লবণ চাষের মৌসুম শেষ পর্যায়ে থাকলেও এই অকাল বৃষ্টিতে মাঠের উৎপাদিত লবণ গলে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।
জেলায় বন্যার আশঙ্কা : আষাঢ় আসার আগেই প্রকৃতির রুদ্ররূপে কাঁপছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। গতরাত থেকে শুরু হওয়া ‘প্রলয়ংকরী’ বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৫ জেলা বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, দেশের চারটি প্রধান নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল এখন জলমগ্ন। রাজধানীর আকাশ যখন মেঘে ঢাকা, হাওর আর পাহাড়ের পাদদেশের মানুষের চোখে তখন নির্ঘুম রাতে জলের তোড়ে সব হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।
বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে ৪ নদী : বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, দেশের ছোট কিন্তু খরস্রোতা চারটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো- ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী এবং মগরা।
উল্লেখ্য, মনু নদী ব্যতীত বাকি তিনটি নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। সোমেশ্বরী নদীর প্রবল স্রোতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তেরিবাজার ঘাটের কাঠের সেতুটি ভেঙে গেছে, যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে উব্দাখালী নদীর পানিও হু হু করে বাড়ছে।
৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের ফলে দেশের পাঁচটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জেলাগুলো হলো: মৌলভীবাজার (ইতোমধ্যেই বন্যা শুরু হয়েছে), নেত্রকোনা (ইতোমধ্যেই বন্যা শুরু হয়েছে), সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। ছোট নদীগু লোয় পানির উচ্চতা বৃদ্ধির হার এতটাই দ্রুত যে, মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ারও পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।
পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাস : আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন দেশের সব বিভাগে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, যা গরমে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভোগান্তি কমাবে না।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও সতর্কতা : নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত পরিষ্কার না করলে আগামী কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বড় অংশ স্থবির হয়ে পড়তে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, কারণ ঝোড়ো হাওয়ায় তার ছিঁড়ে বা খুঁটি উপড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
সাধারণ মানুষের জন্য করণীয় : প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে অবস্থান না করা। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা। পাহাড়ি এলাকার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে দ্রুত সরে যাওয়া।
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জনপদ
সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগের এই ঝড়ে গাছ ও দেয়াল চাপা পড়ে এবং বজ্রপাতে শেষ খবর পর্যন্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক কোটি মানুষ।
গতকাল বিকেল ৩টা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও নওগাঁয় আম কুড়াতে গিয়ে এবং গাছ চাপা পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জে ঝড়ের সময় ঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে যারা মাঠে কাজ করছিলেন। ঝড়ে হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে আম ও লিচু চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঝড়ের তোড়ে লিচু ও আমের গুটি ঝরে পড়ে বাগানের পর বাগান সাফ হয়ে গেছে। বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীতে আঘাত হানে কালবৈশাখী। মাত্র ১৫ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ঢাকার রাস্তাঘাট। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মতিঝিল ও মিরপুর এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ঝড়ের পরপরই শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অফিস ফেরত মানুষ বৃষ্টির কারণে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে পড়ে ভোগান্তির শিকার হন।
এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে সারা দেশে অন্তত ৪০টি গ্রিড লাইন ট্রিপ করেছে। অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে এবং সঞ্চালন লাইনে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পবিস (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) জানিয়েছে, দেশের প্রায় অর্ধকোটি গ্রাহক বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন। উদ্ধার কাজ চললেও রাত বাড়ার আগে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
নদীবন্দরগুলোতেও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ রুটের সব ধরনের লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পরিশেষে বলা যায়, বৈশাখের এই অকাল ও অতি ভারী বর্ষণ কেবল জনজীবনের সাময়িক স্থবিরতাই নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের এক অশনিসংকেত হিসেবেও দেখা দিচ্ছে। একদিকে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি বোরো ফসলের যে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সঠিক সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত আরো দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে; তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা প্রস্তুত রাখা জরুরি।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগ কাটিয়ে দেশ আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক এটাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।