শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো—
(১) সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রি পদে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন
(২) ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ
(৩) সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি
‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ নামে ছয়টি সংগঠনের যৌথ মোর্চা এ মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এতে সারা দেশ থেকে আগত হাজারো শিক্ষক অংশ নেন, ফলে পুরো শহীদ মিনার চত্বর শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ভরে ওঠে।
শিক্ষকরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন। মহাসমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা সমাবেশে সংহতি জানানোর কথা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রতিশ্রুতি দেন, শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হলে তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।
তিনি জানান, প্রায় ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভুল ব্যাখ্যার কারণে হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণে সহকারীদের শতভাগ পদোন্নতি দাবি করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রধান শিক্ষকরা যেখানে ১০ম গ্রেডে (শুরুর বেতন ১৬ হাজার টাকা) আছেন, সেখানে সহকারী শিক্ষকরা রয়েছেন ১৩তম গ্রেডে (শুরুর বেতন ১১ হাজার টাকা)। চাকরির এক দশক পর ইনক্রিমেন্টসহ এই ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। শিক্ষকরা একে চরম বৈষম্য হিসেবে দেখছেন।
তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। কিন্তু বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা সহকারীদের থেকে তিন ধাপ এগিয়ে আছেন। এমনকি অনেক প্রধান শিক্ষকও চান, সহকারীদের জন্য ১১তম গ্রেড ঘোষণা করা হোক।
এর আগে সহকারী শিক্ষকরা দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। গত ৫ থেকে ১৫ মে ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। সর্বশেষ ২৯ মে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন তারা।