রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলার খবর পেয়ে শুক্রবার তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাতের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সরকার বা সিটি করপোরেশন কেউই চায় না। ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুখোশধারী প্রায় ২৫০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির নামে সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, হামলা ও লুটপাটে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকারি অংশীদারত্বে পরিচালিত এই কেন্দ্রটি এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছিল।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা ও রেজিস্টার, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ অর্থ, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কোনো সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জায়গা কিংবা স্থাপনা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ভাঙচুরের পরও স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এদিকে হামলার ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। তিনি হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাড্ডা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।