আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৩ অপরাহ্ণ   |   ৫৭ বার পঠিত
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী

মেহেরপুর প্রতিনিধি


 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত তা সমন্বয় করা হবে।
 

বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কর্মকাণ্ডের তদারকি ও সমন্বয় নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
 

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ। দেশে উল্লেখযোগ্যভাবে নিজস্ব জ্বালানি তেল উৎপাদন না হওয়ায় বিদেশ থেকে তেল আমদানি করতে হয়। বর্তমানে তেল আমদানির উৎসগুলোতে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে।
 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও বীমা প্রিমিয়ামও বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে তেল আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
 

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘মূল্য সমন্বয় না করে সরকার কতদিন থাকতে পারবে? সরকার ছয় মাস চেষ্টা করেছে। যখন বিকল্প সামনে ছিল না, তখনই সরকারকে কঠিন এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।’
 

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলোও পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছে। সংকট কেটে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। তখন জ্বালানি তেলের দাম কমলে সরকারও দ্রুত দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করবে।
 

মতবিনিময় সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের জনগণের প্রতি আস্থার সংকট ছিল। এ কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চায়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা জনগণকে ভোটাধিকার থেকে দূরে রেখেছিল।
 

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হওয়ায় একটি পক্ষ সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। জনগণকে কষ্টে না রেখে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
 

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবীর এবং মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান।
 

এ ছাড়া সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।